কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপি নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এর মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি ছিল একটি আইনি লড়াই এবং চ্যালেঞ্জের গল্প। শুরু থেকেই তার মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার অধিকার আদায় করেন।
মনোনয়ন জমাদান
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পাননি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং তার হলফনামায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উল্লেখ করেন।
📋 মনোনয়ন বাতিল
দলীয় মনোনয়নের চিঠি জমা না দেওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এছাড়াও ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যয়ন নেই—এ দুই গ্রাউন্ডেও তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
আইনি লড়াই শুরু
মনোনয়ন বাতিলের পর মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে তিনি ঋণখেলাপি নন। তিনি গত ১০ ডিসেম্বর এককালীন অর্থ পরিশোধ করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বরের আগেই ঋণ পুনঃ তফসিল হয়।
দলীয় চিঠি প্রাপ্তি
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের পর বিএনপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া কে চূড়ান্ত করে দলীয় চিঠি তার হাতে দেয়। পরে তিনি দলীয় চিঠি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে হাজির হন মনোনয়নপত্রের বৈধতার জন্য।
হাইকোর্টের রায়
হাইকোর্ট মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া কে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন। এই রায়ের মাধ্যমে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়।
⚖️ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়
আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া কে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমতি দেন। একইসাথে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়।
জনগণের সমর্থন
এই আইনি লড়াইয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এর পাশে নাঙ্গলকোট ও লালমাইয়ের জনগণ ছিলেন। তারা আইনি প্রক্রিয়ায় তার সমর্থন দিয়েছেন এবং তার বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
চূড়ান্ত বিজয়
আইনি লড়াই শেষে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হন এবং ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। এই বিজয় তার দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং জনগণের সমর্থনের ফল।
শিক্ষণীয় বিষয়
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এর মনোনয়ন প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হলো—কোনো বাধাই যদি আসে, তবুও হাল ছাড়া উচিত নয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায় আদায় সম্ভব। জনগণের সমর্থন সবচেয়ে বড় শক্তি।